[email protected] +88 01920489299

ইংরেজি কেন শিখবেন কীভাবে শিখবেন?

প্রথমত, ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। আপনি চাইলেই বিশ্বের দুই শতাধিক রাষ্ট্রের শত সহস্র ভাষা শিখতে পারবেন না। কিন্তু আপনার যদি ইংরেজি জানা থাকে তাহলে সব দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন, ভাব বিনিময় করতে পারবেন। কারণ, ইংরেজি হলো লিংগোয়া ফ্রাংকা বা common language।  

দ্বিতীয়ত, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টিভিসহ অধিকাংশ ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সাধারণত ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়। এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হলে আপনাকে ইংরেজি জানতে হবে। 

তৃতীয়ত, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আপনাকে ইংরেজি জানতেই হবে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটি কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, তা হলো, ইংরেজিতে দুর্বল শিক্ষার্থী ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগই পাবে না। ভর্তি পরীক্ষায় আটকে যাবে। আবার যেকোনো ভালো চাকরি জোগাড় করতে হলেও এই ভাষা শেখার বিকল্প নেই। কেননা, নিয়োগদাতারা ইংরেজি-জানা প্রার্থীকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। 

চতুর্থত, আপনাকে শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা ব্যবসার প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে বা বিদেশি কারো সাথে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এখন আপনার ইংরেজি জানা থাকলে কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু ইংরেজি জানা না থাকলে পদে পদে পড়তে হবে সমস্যায়। তখন কি আপনি দোভাষী নিয়োগ দেবেন? মান-সম্মানের প্রশ্ন কিন্তু! 

চলুন, এখন জেনে নিই কীভাবে ইংরেজি শেখা যায়। আমাদের দেশে অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা প্রথম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ইংরেজি বিষয় পড়ার সুযোগ পেলেও এই ভাষায় কথা বলতে ও নিজ থেকে লিখতে পারে না। তার জন্য শিক্ষার্থী নিজে ও শিক্ষাব্যবস্থা দায়ী। 

একজন আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ শিশুর দিকে তাকান। চার-পাঁচ বছর বয়সেই সে অনর্গল ইংরেজি বলছে; আমাদের দেশে তাদের বয়সী শিশুরা যেভাবে বাংলা বলে। আমি বুঝাতে চাচ্ছি, মাতৃভাষা শিশুরা খুব সহজে রপ্ত করে। ভাষাবিদরা এটা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের মতে, মাতৃভাষার আদলে দ্বিতীয় ভাষা বা ইংরেজি শিখলে সেটা বেশি ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়।

তাহলে দেখুন, একজন শিশু কীভাবে তার মাতৃভাষা শিখে। প্রথমত, সে জন্মের পর থেকে তার মাতৃভাষা শুনে পরিবারের সদস্যদের মুখে। একসময় সে একটি একটি করে শব্দ বলতে শিখে। তারপর বাক্যাংশ। আরো বড়ো হয়ে পূর্ণ বাক্য বলতে শিখে। এভাবে বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই সে ঐ ভাষায় মোটামুটিভাবে ভাব বিনিময় করতে পারে। বলতে পারে এবং শুনে বুঝতে পারে।

ইংরেজি ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও আমরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারি। তবে যেহেতু ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়, সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু বিষয়ে ভিন্ন কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। পুরোপুরি মাতৃভাষার আদলে ইংরেজি শিখতে পারলে ভালো। আর তা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত যতটুকু সম্ভব ইংরেজিতে ডুবে থাকতে হবে।

১. ইংরেজি শুনতে হবে বেশি বেশি। শিশুরা ইংরেজি কার্টুন দেখতে পারে। আর বয়স্করা বিভিন্ন ইংরেজি চ্যানেল দেখতে পারেন। যেমন আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন ইত্যাদি। আল-জাজিরা ইউটিউবে লাইভ দেখা যায়। এছাড়া নিজেদের রুচি ও পছন্দের আলোকে ইউটিউবে মুভি, ডকিউমেন্টারি, লেকচার ইত্যাদি দেখা যায়। 

২. পড়ার অভ্যাস করতে হবে। যেকোনো গল্পের বই, উপন্যাস, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ইত্যাদি নিয়মিত পড়তে হবে। পড়ার একটি সুবিধা হলো, বিভিন্ন ধরনের বাক্যের সাথে পরিচিত হওয়া যায়, যা আপনার ভাষাগত দক্ষতাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। The Daily Star, Al Jazeera, BBC, The Economist ইত্যাদি পড়লে একইসাথে সাধারণ জ্ঞান ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

৩. আপনার ইংরেজি বলার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যে কারো সাথে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ৪/৫ মিনিটের অডিয়ো/ভিডিয়ো রেকর্ড করতে পারেন। পরে সেই রেকর্ড শুনে কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে সংশোধন করা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে যাতে প্রতিদিন এটা করা যায় সেজন্য মোবাইলে এলার্ম সেট করতে পারেন। প্রতিদিনের এই ছোট ছোট কাজ আপনার স্পিকিং স্কিলকে অনেক উন্নত করবে।

৪. লেখার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লিখতে হবে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিংবা আত্নীয়-স্বজনদের সাথে মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপে ইংরেজিতে চ্যাটিং করা যায়। তাছাড়া, ইংরেজিতে নিয়মিত ডাইরি লিখা যায়।

৫. শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি করা ভাষা শেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর শব্দ শেখার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে কোনো কিছু পড়ার সময় যখনই নতুন শব্দ আসবে তখনই তার অর্থ দেখে নেওয়া। সম্ভব হলে মুবাইলে কিংবা খাতায় নোট করা। এবং পরবর্তীতে তা বাক্যে প্রয়োগ করা। 

 

লেখক: তাওহীদুল ইসলাম